চাকুরী নাকি ব্যবসা এবং তরুণ প্রজন্মের ভাবনা

চাকুরী নাকি ব্যবসা এবং তরুণ প্রজন্মের ভাবনা


আবু জাকের খান রুবেলঃঃ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তার বিষয় তাদের কর্মজীবনে কোন ধরনের পেশা গ্রহন করবে – কেউ ভাবছে চাকরি ভালো হবে আবার কেউ ব্যবসা । স্বাভাবিক ভাবেই এই নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই।

যারা নির্দিষ্ট পেশার উপর লক্ষ্য করে শিক্ষা গ্রহন করেছে তাদের কথা ভিন্ন। যেমন ডাক্তার, সাংবাদিক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবিসহ এধরনের পেশাগত কাজের জন্য যারা নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তারা তাদের নিজ নিজ পেশায় জীবন ধারনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চাকরি হল নির্দিষ্ট বেতনের জন্য মাসব্যাপী নির্দিষ্ট সময় মেনে কাজ করা। তার সাথে আছে সরকারী ছুটি এবং বোনাস । কিন্তু ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে তেমন কিছুই থাকেনা বলেই চলে । আবার চাকরি যে থাকবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই কারণ কঠিন সময় প্রতিষ্ঠান নিজেই টিকে থাকা কঠিন, যেমন প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ করোনার জন্য অনেক মানুষের চাকুরী হারাতে হয়েছে । সরকারী চাকরিতে অবশ্য চাকরি যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকলেও ব্যক্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকার ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি (যারা অবৈধ উপার্জ্ন করে তাদের কথা ভিন্ন)। যারা চাকরি করে তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায় কারণ চাকরিতে তারা মেধা কাজে লাগানোর যথেষ্ট সুযোগ পায় না বললেই চলে, একটা নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে কাজ করতে হয়। তবে মাস শেষে বেতন পেয়ে একজন চাকরিজীবী নিশ্চিন্ত থাকে কারণ তার লাভক্ষতির হিসাব মেলাতে হয়না।

ব্যবসায় হল একটি স্বাধীন পেশা, যে পেশায় লাভ-ক্ষতি দুটিই বিদ্যমান। এজন্য দরকার দক্ষতা এবং আর্থিকভাবে সচ্ছলতা। একজন ব্যবসায়ী শুধু নিজেই ব্যাবসা করে তা কিন্তু নয় তিনি অন্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারে এবং দেশের অর্থ্নীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখে। ব্যবসায়ে নিজের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিত্বের উপর ভরসা করা যায়। একজন ব্যবসায়ী সব সময় তার সিদ্ধান্তের উপর শ্রদ্ধাশীল হয়।

সমাজ বা পরিবারের বেধে দেয়া নিয়মে আমাদের ইচ্ছা অনেক সময় র্নিভর করে না। আমাদের ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে কাজ করতে হলে পরিবারের বিপরিতে যেতে হয় এবং সমাজের হেয় প্রতিপন্নের শিকার হতে হয়। উদাহরণস্বরূপ- একটা ছেলে পড়ালেখা শেষ করে যদি খামার করতে চায়, তাহলে সমাজের বেশির ভাগ মানুষ বলবে চাকুরী পাওয়ার যোগ্যতা নাই তাই আসছে গরু পালন করতে।

আমাদের সমাজের পরিবারগুলো তার সন্তানদের উৎসাহ দিবে না ব্যবসার ক্ষেত্রে কারণ তাতে যে ঝুঁকি আছে। চাকুরীর জন্য ৫-১০ লাখ টাকা দেয়ার জন্য রাজী হবে কিন্তু ব্যবসার জন্য ২-৩ লাখ টাকা ‍দিতে রাজী হবে না। পরিবারের টাকা ছাড়াও যদি কেউ ব্যবসা করে তাহলে উত্সাহ নামের জিনিসটা কখনো মিলে না। সমাজের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রের বিপরিতে গিয়ে  নিজের লক্ষ্যে যাওয়া অনেক কঠিন।

সমাজে বাড়ছে বেকাত্ব তার প্রধান কারণ রাষ্ট্র বা সমাজ তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হবার সঠিক পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারছে না। উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী তৈরি না হলে বেকারত্ব দূর হবে না ।

বতর্মান তরুণ প্রজন্মের চিন্তা ভাবনা অনেক এগিয়ে তারা বেশির ভাগ স্বনির্ভর হরাব জন্য প্রস্তুত কিন্ত প্রয়োজন ব্যবসার একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি যা তারা সরকারের কাছে চাওয়ার মধ্যে অন্যতম।

মন্তব্য