বিশ্বনাথে মাত্র ১৯ ভোটার দিয়েই উপ-নির্বাচন!

বিশ্বনাথে মাত্র ১৯ ভোটার দিয়েই উপ-নির্বাচন!


মাত্র ১৯ ভোটারের জন্য সিলেটের বিশ্বনাথে আগামী ২০ অক্টোবর উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপ-নির্বাচন। ইতিমধ্যে এ নির্বাচনের প্রায় সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।কিন্তু ওয়ার্ডের ৬টি ভোটার এলাকার মধ্যে ৪টি ভোটার এলাকাই সম্প্রতি ঘোষিত ‘বিশ্বনাথ পৌরসভা’র সাথে অর্ন্তভূক্ত হয়েছে। অবশিষ্ট দুইটি ভোটার এলাকায় ভোট রয়েছে মাত্র ১৯টি।  

আর এই ১৯ ভোটারের জন্য ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন আয়োজনের ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে সদ্য ঘোষিত ‘বিশ্বনাথ পৌরসভা’সহ আরো ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন! এছাড়া পৌর এলাকায় অর্ন্তভূক্ত হওয়া এলাকায় কিভাবে একটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন আয়োজন করা হলো, এনিয়ে চলছে নানা আলাপ-আলোচনা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে এ ব্যাপারে, কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সরকারসহ সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষে কাছে দাবী জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ। 

জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওর্য়াডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ছোরাব আলী মৃত্যুবরণ করলে ওই ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদটি শূন্য হয়। এরপর শূন্য  পদটি পূরণের জন্য ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আর তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে আগ্রহী প্রার্থীরা নিজেদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই শেষে নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ৫ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীকও বরাদ্ধ দেয়া হয়। উপজেলার ‘চড়চন্ডি, ছত্রিশ উত্তর, মিয়াজনেরগাও, হাবড়া, নতুন হাবড়া বাজার, পুরাণ হাবড়া বাজার’ নামে ৬টি ভোটার এলাকা নিয়ে গঠিত দৌলতপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৭৫১জন।

এর মধ্যে নতুন হাবড়া বাজার, পুরাণ হাবড়া বাজার ছাড়া বাকি ৪টি ভোটার এলাকা নবগঠিত বিশ্বনাথ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সাথে অর্ন্তভূক্ত হয়েছে। আর ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে শুধু মাত্র ‘নতুন হাবড়া ও পুরাণ হাবড়া বাজার’ এলাকা। ওই দুটি ভোটার  এলাকার মোট ভোটার মাত্র ১৯ জন (নতুন হাবড়া বাজারে ৫জন ও পুরাণ হাবড়া বাজারে ১৪)। পৌরসভার বাসিন্দারা ভোট দিতে না পারলে ওই ওয়ার্ডে মাত্র ১৯ ভোটার ভোট দিতে পারবেন। এদিকে নির্বাচনে সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তাদের প্রচার-প্রচারণাও ব্যাপক উৎসবমূখর পরিবেশে চলছে।

কিন্তু সচেতন মহল বলছেন, ওই ওয়ার্ডে নির্বাচন হলে পরবর্তিতে অনেক নির্বাচনী জটিলতা সৃষ্টি হবে। আর এই জটিলতাকে পুঁজি করে সুযোগ সন্ধানী প্রতিনিধিরা নিজেদের পদে আসীণ থাকতে নানা অপচেষ্ঠা চালাতে পারেন। ফলে আটকে যেতে পারে পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এতে করে দূভোর্গের কবলে পড়বে ওই এলাকার জণগন। এমন নির্বাচনী জটিলতা দূর করতে চাইলে ওই ওয়ার্ডের নির্বাচন স্থগিত ছাড়া অন্য কোন পথ নেই বলে জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন অফিসার গোলাম সারওয়ার বলেন, আমরা আগে জানতাম না যে, ওই ওয়ার্ডের বিশাল অংশ পৌরসভার সাথে অর্ন্তভূক্ত হয়েছে। গত মঙ্গলবার পৌরসভার ওয়ার্ড বিভক্তিকরণের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে ওই ওয়ার্ডের নির্বাচন স্থগিত করার জন্য বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবরে একটি লিখিত পাঠিয়েছি।  

বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বর্ণালী পাল বলেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে মৌখিক ও লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য