তাহিরপুরে কিশোরী ধর্ষিত, দামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

তাহিরপুরে কিশোরী ধর্ষিত, দামাচাপা দেয়ার চেষ্টা


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এবার এক অসহায় দিনমজুর কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষক বখাটের নাম আব্দুল মোতালিব (৪২)। সে ৪ সন্তানের জনক। সে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাহারাম গ্রামের ইছব আলীর ছেলে। সোমবার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে মাহারাম আদর্শ গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

ধর্ষকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় বিচার শালিসের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনাটি দামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে এবং আইনি সহায়তা না নিতে ঘটনার পর থেকেই ভিকটিম ও তার পরিবারকে অবরোদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ও ভিকটিম সূত্রে জানা যায়,  মাহারাম আদর্শ গ্রামের দিনমজুর এক কিশোরী তার নিজ বসত ঘরে ছোট একটি মুদির দোকান দেয়। মাহারাম চকবাজারের ব্যবসায়ী মোতালিবের দোকান থেকে পাইকারি মুদি মাল ক্রয় করতো সে। এর সুবাধে মোতালিব কিশোরীর বাড়িতে যাওয়া  আসা করতো।

একপর্যায়ে কিছুদিন যেতে না যেতেই মোতালিবের নজরে পরে ওই কিশোরী। বেশ কিছুদিন ধরে কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিতো এবং বিভিন্ন ভাবে লোভ লালশা দেখাতো সে। এতে কিশোরী রাজী না হওয়ায় সোমবার রাত প্রায় আড়াইটার দিকে ভিকটিমের বসত ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক কিশোরীকে ধর্ষণ করে সে। পরে কিশোরীর চিৎকারে পাশ্ববর্তী ঘরের লোকজন এগিয়ে আসলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

কিশোরী জানায়,  ঘটনার পর থেকেই তাকে এবং তার পরিবারকে বিষয়টি যেনো কাউকে না জানাই সে জন্য তাকে হুমকি দিচ্ছে ধর্ষক মোতালিব ও তার পরিবার। এমনকি সে চিকিৎসা বা আইনি সহায়তা যাতে না নিতে পারে সে জন্য কঠোর নজর ধারীতে রেখেছে ধর্ষকের পরিবার তাকে।  

মাহারাম আদর্শ গ্রামের সভাপতি আব্দুল জব্বার (৫৫) জানান, সোমবার গভীর রাতে মেয়েটির ঘরে চিৎকার শুনে তার ঘরে গিয়ে মোতালিবকে দেখতে পাই। কিশোরীর বাপ মা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে সে তাদের মারদর করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি রাতেই স্থানীয় নোয়াজ আলী মেম্বারকে জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য নোয়াজ আলী বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি ভিকটিমের পরিবার থাকে জানিয়েছে। তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি নিয়ে শালিশের মাধ্যমে জরিমানা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিবেন বলে ভিকটিমের পরিবারকে জানিয়েছেন তিনি।

তাহিরপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ তরফদার ও এসআই দিপংকর বলেন, এমন একটি ঘটনা শুনেছি, তবে থানায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য