চলতি বছর মারা গেছেন যেসব তারকা

চলতি বছর মারা গেছেন যেসব তারকা


মর্নিংসিলেট বিনোদন :: বিষাদের বছর ২০২০। করোনার প্রকোপে থমকে ছিল পুরো বিশ্ব। ওলট-পালট হয়ে গিয়েছিল শোবিজ দুনিয়াও। বিষাদের এ বছরেও শোবিজ অঙ্গনের একাধিক তারকা বিদায় নিয়েছেন পৃথিবী থেকে। তবে তারকারা বেঁচে থাকবেন তাদের কাজ দিয়ে। যারা না ফেরার দেশে যারা চলে গেছেন তাদের জন্য রইল আমাদের শ্রদ্ধা।

এন্ড্রু কিশোর: ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। ২০২০ সালের ৬ জুলাই সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। বাংলা সংগীতের জনপ্রিয় এ শিল্পী ‘প্লে-ব্যাক সম্রাট’ হিসেবেও পরিচিত।

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। ছয় বছর বয়সে সঙ্গীতের তালিম নিয়েছিলেন তিনি। গুণী এ শিল্পী আমাদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্যা জনপ্রিয় গান। স্বীকৃতি হিসেবে ‘শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী’ ক্যাটাগরিতে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া একাধিক বাচসাস পুরস্কার এবং মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননা আছে তার ঝুলিতে।

শরীফুল ইসলাম চৌধুরী

আলাউদ্দীন আলী: সুর সম্রাট আলাউদ্দীন আলী মারা গেছেন ২০২০ সালের ৯ আগস্ট। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আলাউদ্দীন আলী দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস এবং রক্তের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। ১৯৫২ সালেল ১৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আলাউদ্দীন আলী ছিলেন একাধারে একজন সুরকার, বেহালাবাদক, সংগীতজ্ঞ, গীতিকার এবং সংগীত পরিচালক। সংগীত পরিচালক হিসেবে সাতবার এবং গীতিকার হিসেবে একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

সাদেক বাচ্চু: করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। জনপ্রিয় এ অভিনেতার আসল নাম মাহবুব আহমেদ সাদেক। কিংবদন্তি পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী’ সিনেমায় তার নাম বদলে সাদেক বাচ্চু রাখা হয়। তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা, নাটক রচয়িতা, নাট্যনির্দেশক ও ডাক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে সক্রিয় ছিলেন এ অভিনেতা। ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি হিসেবে ‘শ্রেষ্ঠ খলচরিত্রে অভিনেতা’ ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

আলী যাকের: ৭৬ বছর বয়সে চিরবিদায় নিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকের। ২৭ নভেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বার্ধক্য, হৃদরোগসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন আলী যাকের। মৃত্যুর আগে করোনায় আক্রান্তও হয়েছিলেন তিনি। ১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই শব্দসৈনিক। ১৯৭২ সালে আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন তিনি। মঞ্চের পাশাপাশি টিভি নাটকেও বেশ জনপ্রিয় ছিলেন আলী যাকের। তার স্ত্রী সারা যাকের এবং পুত্র ইরেশ যাকের।

কে এস ফিরোজ: শোবিজের পরিচিত মুখ অভিনেতা কে এস ফিরোজ মারা গেছেন ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ২০ মিনিটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও করোনা উপসর্গ ছিল তার। ১৯৪৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন এ অভিনেতা। ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীর মেজর পদে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। নাট্যদল ‘থিয়েটার’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিনয়ে কে এস ফিরোজের পথচলা শুরু। প্রথম অভিনয় করেন ‘দীপ তবুও জ্বলে’ নাটকে। ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দাতেও ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

চিত্রনায়ক সাত্তার: আশির দশকের জনপ্রিয় নায়ক সাত্তার। ১৯৬৪ সালে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে ইবনে মিজান পরিচালিত ‘আমির সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরী’ সিনোমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৮৪ সালে ‘রঙ্গিন রূপবান’ সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন সাত্তার। ক্যারিয়ারে তিনি ১১০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ৫ আগস্ট না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।এ ছাড়া ২০২০ সালে শোবিজ দুনিয়া থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন আরও অনেকে। সে তালিকায় রয়েছেন চিত্রসম্পাদক আমিনুল ইসলাম মন্টু, প্রযোজক মতিউর রহমান পানু, নায়িকা জবা, অভিনেতা রানা হামিদ, অভিনেত্রী মিনু মমতাজ, আবৃত্তিশিল্পী ইশরাত নিশাত, সুরকার সেলিম আশরাফ, সংগীত প্রযোজক সেলিম খান।

মন্তব্য